ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ( Virtual Reality)
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ( Virtual Reality)
আপনি কি কখনো পৃথিবীর বাইরে থেকে সৌরমন্ডল কে দেখেছেন? আকাশের পাখির মতো উড়েছেন? জীবনে কখনো চাঁদে পা রেখেছেন? পৃথিবীর সর্ববৃহৎ জঙ্গল অ্যামাজন এগিয়ে হিংস্র জন্তু জানোয়ারের সাথে বসে আলাপ আলাপন করেছেন? সাগর কিংবা মহাসাগরের বৃহত্তম প্রাণী তিমি কিংবা ডলফিন এর পিঠে বসে সাগর পাড়ি দিয়েছেন?
এসব প্রশ্নের কথা শুনে নিশ্চয়ই অসম্ভব সব ভাবনার কথা ভাবছেন। তবে আমি যদি বলি এসব কাজ আপনি করতে পারবেন অনুভব করতে পারবেন তাহলে কেমন ফিলিংস কাজ করবে???হ্যাঁ অনেক ভালো লাগবে। সৌরজগতের বাইরে থেকে পরিভ্রমণ করা, আকাশে পাখি হয়ে উড়া, চাঁদে পা রাখা বা মঙ্গল গ্রহে যাওয়া, সর্ববৃহৎ জঙ্গল অ্যামাজনে যাওয়া কিংবা তিমির পিঠে চড়ে সাগর পাড়ি দেওয়া সম্ভব একমাত্র ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে ।
যেকোনো পরিবেশে গিয়ে যে কোন দৃশ্য দেখতে পারবেন এবং তা সত্য মনে হবে এই ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে যে কোনো কাল্পনিক দৃশ্য তৈরি করে সেখানে যাওয়া যায় এবং ঐ পরিবেশের অনুভূতি বুঝা যায়।পরিবেশ টাকে স্পর্শ করা না গেলেও অনুভব করা যায়।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এমন এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রাম যার মাধ্যমে কোন কাল্পনিক পরিবেশ তৈরি করে।
আমরা অনেক সময় সৌরজগতের ধারণা কে কাজে লাগিয়ে কম্পিউটার - স্পিকার, বিভিন্ন আকর্ষণীয় ছবি কোন এক বিশেষ পদ্ধতির দ্বারা এমন এক পরিবেশ তৈরি করা হয় জাতির দর্শকের মাঝে প্রদর্শন করে এবং দর্শক মনে করে তিনি সৌরজগৎ কেই পরিদর্শন করছেন।এক্ষেত্রে কল্পনা শক্তি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এসব কাজ করা হয়।বিভিন্ন বিজ্ঞাপন চলচ্চিত্র কিংবা কাল্পনিক কোন সিরিয়ালে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
অনেক সময় মানুষ বহুতল ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিতে, শূন্যে ভেসে বেড়া, গভীর জলে সাঁতার কাটা, বিভিন্ন আকর্ষণীয় ডিজাইন সহ দৃষ্টিনন্দিত কাজে এসবের ব্যবহার বেড়েই চলছে।
বর্তমানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনা সম্ভব।কাল্পনিক জগতে প্রবেশ করে অনেক বড় বড় অপারেশনের ট্রেনিং, বিভিন্ন মহামারী টিকা প্রয়োগ এবং সাইড ইফেক্ট নিয়ে পর্যালোচনা এবং পরবর্তী প্রস্তুতি, তাছাড়া নতুন ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ দেয়া সম্ভব।যার ফলে বাস্তবে এসব কাজ না করেও অনেক বড় বড় অভিজ্ঞতা অর্জন করা যাবে।
চলো এবার ভার্চুয়াল রিয়ালিটি আবিধানিক অর্থ টা একটু বুঝে আসি।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এ দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এটি।Virtual শব্দের অর্থ 'অপার্থীব', reality শব্দের অর্থ 'বাস্তবতা'।তবে এ বাস্তবতা শুধুমাত্র মানুষই বুঝতে পারবে। একে এক ধরনের অপার্থীব বাস্তবতা বা সামনের বাস্তবতা কিংবা কাল্পনিক বাস্তবতাও বলা যেতে পারে।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সম্পূর্ণ করার জন্য কোন কম্পিউটারের হার্ডওয়ার ও সফটওয়্যার এর সমন্বয়ে কোন ঘটনাকে ত্রিমাত্রিক কাঠামোতে রূপ দেয়া এবং এমনভাবে উপস্থাপন করা যাতে দর্শকের কাছে বাস্তব বলে মনে হবে।
দর্শকের রিয়াল অনুভূতি দেয়ার জন্য সাধারণ গ্রাফিক্স এর তুলনায় এখানে শব্দ ও স্পর্শকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।তাছাড়া বাস্তবভিত্তিক শব্দ ছাড়া মানুষ বা দর্শকের অনুভূতি কাজই করবে না।বাস্তবে না গিয়ে নিজেই কাজটি করি অনুভূতিগুলো বোঝা যাবে যার মাধ্যমে সেটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি।
মনে করেন আপনি একটি চেয়ারে বসে আছেন।চেয়ারটি এমন মেকানিজমে তৈরি যাতে এটি চারদিকে নড়াচড়া করতে পারে।এখন আপনার চোখেই এমন একটা যন্ত্র বসিয়ে দেওয়া হলো যাতে আপনি দেখতে পাচ্ছেন আপনি একটি প্লেন চালাচ্ছেন। প্লেনের চালানোর সাথে আপনার শরীরের অনুভূতিগুলো প্রকাশ পেল এবং যে পরিস্থিতিতে যেভাবে নড়াচড়া করা দরকার যে শব্দ হবার কথা সবই অনুভব করলেন।তাহলে এটি ভার্চুয়াল।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি আবিষ্কারের ইতিহাস:
1838 সালে সর্বপ্রথম stereoscope আবিষ্কার করা হয়েছিল যেখানে একটি ইমেজকে প্রজেক্ট করার জন্য টুইন মিরর ব্যবহার করা হয়েছিল।পরবর্তীতে হাজার 1957 সালে Morton Heiling এটি আবিষ্কার করেন এবং 1980 দশকে দিকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্রথম ব্যবহার করা হয়।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নিয়ে চিন্তা ভাবনার অনেক বাকি রয়ে গেছে। কি বলেন আপনাকেও কিন্তু এ বিষয়ে একটু চিন্তা-ভাবনার দায়িত্ব রয়েছে।
লিখেছেন: রায়হান কবির।
